১৭ জুন ২০২৬

প্রবাসীদের চাহিদায় ফল রপ্তানিতে রেকর্ড, ১১ মাসে আয় ১২.৩ কোটি ডলার

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে আম এখনো দেশের প্রধান রপ্তানি ফল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।
প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
প্রবাসীদের চাহিদায় ফল রপ্তানিতে রেকর্ড, ১১ মাসে আয় ১২.৩ কোটি ডলার

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের ফল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ফল রপ্তানি করে বাংলাদেশ ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এর পুরো বছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে ফল রপ্তানি থেকে আয় ৮২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ফল রপ্তানি থেকে দেশের সর্বোচ্চ আয়।

গত তিন অর্থবছর ধরে এ খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ফল মূলত মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, "আমাদের অধিকাংশ রপ্তানি প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদা পূরণ করে। আমরা এখনও আন্তর্জাতিক মূলধারার ফলের বাজারে প্রবেশ করতে পারিনি, কারণ বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মান-অনুবর্তিতা, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।"

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে উন্নতি, রপ্তানিমুখী ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ ফল রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, 'বাদাম, তাজা বা শুকনো' শ্রেণির পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২১ ডলারে। তাজা ফলের রপ্তানিও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে আম এখনো দেশের প্রধান রপ্তানি ফল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।

উন্নত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে পেয়ারা ও কাঁঠালও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি আনারস, লিচু, কলাসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ফল সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানি হচ্ছে।

ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে ফল চাষে, বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে, উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, "পার্বত্য অঞ্চলে এক ধরনের ফল বিপ্লব ঘটছে। ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো ফসলের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।"

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত সহায়তা বাড়ানো গেলে ফল রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তার ভাষ্য, "প্যাকিং শেড, ফসলোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা গেলে রপ্তানিকারকেরা আন্তর্জাতিক বাজারের আরও বেশি সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।"

ইপিবির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ফল রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখে, কারণ এ খাত মূলত দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, "অন্যান্য অনেক খাতের মতো ফল উৎপাদনে আমদানিনির্ভর উপকরণের প্রয়োজন খুব বেশি হয় না।"

তিনি আরও জানান, রপ্তানি বাজারে আরও বেশি কৃষক ও উদ্যোক্তাকে যুক্ত করতে কাজ করছে ইপিবি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা, আধুনিক প্যাকেজিং সুবিধা এবং উন্নত ফসলোত্তর ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের ফলে পণ্যের মান ও সংরক্ষণক্ষমতা বেড়েছে।

তারা আরও বলেন, রপ্তানিযোগ্য মানের ফলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তিভিত্তিক চাষের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে।

লজিস্টিকস এখনো বড় চ্যালেঞ্জ

ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ এবং পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ (ট্রেসেবিলিটি) ব্যবস্থা চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে।

তবে রপ্তানিকারকদের মতে, লজিস্টিকস-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে। উচ্চ বিমান ভাড়া, মৌসুমে কার্গো পরিবহনের সীমিত সুযোগ, পর্যাপ্ত শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব এবং শুল্ক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা রপ্তানি বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, গত বছর জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার টন আম রপ্তানি হয়েছে। চলতি মৌসুমে এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, "কোয়ারেন্টিন সনদ প্রদান ও প্যাকেজিং সুবিধাসহ অধিকাংশ রপ্তানিসংশ্লিষ্ট সেবা ঢাকাকেন্দ্রিক। এসব সুবিধা বিভাগীয় পর্যায়ে থাকলে রপ্তানি আরও সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী হতো।"

তিনি আরও বলেন, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে ফল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, আম রপ্তানির মৌসুম পুরোদমে চলতে থাকায় অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ফল রপ্তানি থেকে আয় আরও বাড়বে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুনে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করছে সরকার

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুনে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করছে সরকার

চলতি মাসে সরকার আরও চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে, যাতে মোট গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাসবাহী পাঁচটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জুন মাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মধ্যে গতকাল ১৫ জুন পর্যন্ত পাঁচ কার্গো দেশে পৌঁছেছে।’

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের জন্য ক্রয়কৃত নয় কার্গো এলএনজির মধ্যে পাঁচটি স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছে, বাকি চার কার্গো স্পট মার্কেট থেকে আনা হবে।

এর আগে, মে মাসে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করে, যাতে গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেট সব উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে।’

গড়ে প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে বলে তিনি জানান।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

দেশের বাজারে আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
দেশের বাজারে আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়ে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ দাম। আজ বুধবার (১৭ জুন) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সবশেষ নির্ধারিত দামে।

সবশেষ গত ১৫ জুন সকালে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা ও ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড ) মূল্য বেড়েছে। সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

সচল হচ্ছে দেশের ৮ আঞ্চলিক বিমানবন্দর

♦ আন্তর্জাতিক মানের হবে বগুড়া বিমানবন্দর ♦ বাণিজ্য বাড়ানোয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
সচল হচ্ছে দেশের ৮ আঞ্চলিক বিমানবন্দর

বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা দেশের আটটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিমানবন্দরের অবকাঠামো, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনগণের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করা হচ্ছে। স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের সাত থেকে আটটি বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দেশের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় বগুড়াকে কেন্দ্র করে একটি এভিয়েশন হাব বা আন্তর্জাতিক মানের কার্গো পরিবহনের কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় অনুমোদন পেয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করা হবে, যাতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ বড় আকারের যাত্রী ও কার্গো উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারে।

এ ছাড়া আধুনিক টার্মিনাল ভবন, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটিতে কয়েক শ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও নতুন প্রাণ পেতে যাচ্ছে। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বেবিচকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের উচ্চপর্যায়ের একটি দল বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেছে।

বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর (মৌলভীবাজার), খানজাহান আলী (বাগেরহাট) এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বিমানবন্দরের নিজস্ব আয়-ব্যয় দিয়ে এর লাভক্ষতি বিচার করা ঠিক হবে না। একটি বিমানবন্দরকে ঘিরে হোটেল, পরিবহন, ব্যবসা ও পর্যটনসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।

যেমন শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্প চাঙা হবে। আবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ঈশ্বরদীতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত বাড়ছে, ফলে ওই বিমানবন্দরটিরও বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে।

বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করা গেলে দেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, যার সুফল পাবে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ।

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা

দেশের আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকার পাশের ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলা নতুন করে রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজ রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কী পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কী কার্যক্রম চলমান এবং আগামীতে কী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে একটা মিটিং ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটা জেনেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন এবং তার মতামতও যুক্ত করেছেন। সেই সামগ্রিক যোগাযোগ কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে পর্যালোচনাপূর্বক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি। যেমন, আখাউড়া-সিলেট, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সেটা তো আছেই, অ্যাট দ্য সেম টাইম আমাদের ধীরাশ্রমে একটা আইসিডি কনটেইনারের প্রকল্প এরই মধ্যে পাস হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা সেটা কিছু মিটারগেজ কিছু হচ্ছে আপনার ব্রডগেজ।’

রেল যোগাযোগের আওতায় আসা জেলাগুলো হলো, শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর।

বিয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হচ্ছে অনলাইন জন্মনিবন্ধন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
বিয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হচ্ছে অনলাইন জন্মনিবন্ধন

বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালের পরিবর্তে অনলাইন জন্মনিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে সরকার ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিসেফ এবং ইউএনএফপিএ-এর কারিগরি সহায়তায় বর্তমানে এই নতুন আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে।

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের ‘বিশেষ পরিস্থিতি’র সুযোগ নিয়ে বাল্যবিবাহ দেওয়ার আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করা হবে। এই সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ট্য হবে, বিবাহ নিবন্ধনের জন্য সনাতন পদ্ধতির কাগজের সনদের বদলে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার করা। মূলত জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরি করে অপ্রাপ্তবয়স্ক বর-কনের আসল বয়স লুকানোর প্রবণতা বন্ধ করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়াই অনেক বিবাহ সম্পন্ন হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে এর সঠিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাল্যবিবাহ পুরোপুরি নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’