১৭ জুন ২০২৬

প্রবাসীদের জন্য পূর্বাচলে ‘প্রবাসী সিটি’ ও গুলশানে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার বড় পরিকল্পনা!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
প্রবাসীদের জন্য পূর্বাচলে ‘প্রবাসী সিটি’ ও গুলশানে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার বড় পরিকল্পনা!


প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি, পাসপোর্ট জটিলতা, দালালচক্র, ভিসা প্রতারণা, দূতাবাসে সেবা সংকট, লাশ দেশে আনা, পুনর্বাসন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি প্রশ্নে জাতীয় সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

এ সময় প্রবাসীদের সমস্যা সরেজমিনে দেখতে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তার এই প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পারে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ অনুযায়ী প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব তোলেন শফিকুর রহমান।

স্পিকার আলোচনার জন্য দেড় ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।

সে আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা বেশি, সেখানে এই টাস্কফোর্স গিয়ে প্রবাসী কর্মী ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনতে পারে। আমরা যদি একটা ‘টোটাল প্যাকেজের’ দিকে যাই, আমি রেমিটেন্স বাড়ার উদ্দেশ্যে বলছি না; মানবতাকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে বলছি।

“প্রবাসীদের আমরা টাকার মেশিন হিসেবে না দেখি। আমরা যেন আমাদের প্রাণ হিসেবে, কলিজা হিসেবে দেখি।”

‘শ্রমিক রপ্তানি’ ও ‘মানুষ রপ্তানি’ ধরনের পরিভাষা নিয়েও আপত্তি তোলেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “পণ্য রপ্তানি হয়, মানুষ রপ্তানি না হোক। এটাকে একটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাই।”

বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও পেশাজীবীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা টাকা চান না; তারা সম্মান ও কাজ করার পরিবেশ চান। ফাইন্যান্সিয়াল রেমিটেন্স তো অবশ্যই লাগবে। কিন্তু তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় ইন্টেলেকচুয়াল রেমিটেন্স।”

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে এমআরপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিল না থাকার কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন দাবি করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “নামের বানান, বয়সের সামান্য অমিল বা তথ্যগত ত্রুটির কারণে অনেকের ই-পাসপোর্ট হচ্ছে না। এতে বহু প্রবাসী বিদেশে অবৈধ হয়ে পড়ছেন বা পড়ার ঝুঁকিতে আছেন। এই সংখ্যা শত নয়, হাজার হাজার।”

বিদেশ থেকেই এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যগত জটিলতা সহজে নিরসনের ব্যবস্থা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

প্রবাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবিও তোলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

একই বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও তারা পদে পদে হয়রানির শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরি, ভিসা প্রতারণা, টিকিট জালিয়াতি, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা ও দূতাবাসে সেবা না পাওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও বিদেশে ভুয়া কোম্পানির নামে শ্রমিক পাঠানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে দূতাবাস, মন্ত্রণালয় ও বিদেশি সিন্ডিকেটের যোগসাজশ থাকে। আহত হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসী এবং প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীদের পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির দাবি তোলেন তিনি।

নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকতউল্লাহ বুলু হজের সময় সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের দুরবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হারাম শরিফ ও মিনায় অনেক বাংলাদেশি অত্যন্ত কম মজুরিতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। বাংলাদেশিরা ৪০০ রিয়াল বেতন পায়। পাকিস্তানি, নেপালি, ভারতীয়রা পায় দুই-তিন হাজার রিয়াল।” মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললে যেন আগের মতো সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেন তিনি। দূতাবাসে পাসপোর্ট নবায়নে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর দাবিও জানান বুলু।

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসী শ্রমবাজারের সমস্যা নতুন নয়; এর পেছনে দীর্ঘদিনের আদম ব্যবসায়ী ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হলেও মানব পাচার, দালালচক্র ও ভিসা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইউরোপগামী অনিরাপদ রুটে অনেক বাংলাদেশির মৃত্যু হলেও মানব পাচারকারীদের বিচার হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। “মানব পাচারের যে হত্যা হয়, তাদের বিচারও দ্রুত করতে হবে।”

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকেই কম মজুরি, অস্বাস্থ্যকর আবাসন ও পাসপোর্ট জটিলতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, পাসপোর্ট নবায়নে সাত-আট মাস লেগে যায়। এতে অনেকের ভিসা শেষ হয়ে তারা বিদেশে অবৈধ হয়ে পড়েন। প্রতিটি মিশনে প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী প্যানেল রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, প্রবাসীদের শুধু ‘রেমিটেন্স যোদ্ধা’ হিসেবে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের বড় অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। এ সময় তিনি রেমিটেন্স আসার তথ্যও তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডে ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন এবং দেশে থাকা পরিবারের সদস্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সেই টাকা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রবাসীদের আবাসন সুবিধা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রথমে পূর্বাচলে, পরে জেলা পর্যায়ে এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের জায়গায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময় প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের কয়েক ক্ষেত্রে সহায়তার হিসাবও তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স আছে; যাচাই-বাছাই করলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি টিকবে না বলে তার ধারণা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা জাতীয় সমস্যা, এটি সরকার ও বিরোধী দল মিলে সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন, বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা রোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো মাইগ্রেশন উইং খোলা হয়েছে। অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যা, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের ফেরত আনা, বিদেশে আটক নাগরিকদের সহায়তা এবং শ্রমবাজার-সংক্রান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা সমন্বয়ে কাজ করবে তারা।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম।

এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও সহজলভ্য পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিশ্বের ৭৩টি বাংলাদেশ মিশনের মধ্যে ৭১টিতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে।

গত ছয় মাসে বিদেশি মিশনগুলো থেকে ইস্যু করা পাসপোর্টের প্রায় ৮৬ শতাংশ ই-পাসপোর্ট এবং ১৪ শতাংশ এমআরপি পাসপোর্ট ছিল। তিনি বলেন, বিদেশে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশিরা এনআইডির পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেও পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিদেশি মিশনগুলোতে পাসপোর্ট সেবা পেতে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। ‘মাল্টিপল অ্যাকটিভ বায়োমেট্রিক’, তথ্যের অমিল, হারানো পাসপোর্ট, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট যাচাই বা বিশেষ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক সময় প্রয়োজনীয় নথি যথাসময়ে আপলোড না করা, সমস্যার প্রকৃতি না বোঝা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় প্রবাসীদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবায় ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

টাস্কফোর্স হতে পারে

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পারে।

তিনি বলেন, শ্রমবাজারের সমস্যা, রিক্রুটিং এজেন্সি, পাসপোর্ট, বিমানবন্দর, দূতাবাস সেবা—এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও আলোচনা হতে পারে।

প্রবাসীদের বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় যথাযথ সম্মান দিতে স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় মিলে একটি ওয়ার্কিং কমিটি করতে পারে বলেও মত দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা। এর আগে শ্রমবাজার নিয়ে দুই মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের সরকারের সময়ে অনেক ক্ষেত্রে মানব পাচার, অর্থ পাচার ও শ্রমিক প্রতারণা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ১০০ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

ভোট হয়নি

আলোচনা শেষে স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সাধারণ আলোচনা চেয়েছেন, প্রস্তাবে সংসদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় না থাকায় তা ভোটে দেওয়া হচ্ছে না।

দীর্ঘ আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে একমত হন। বিভিন্ন বক্তা সংসদীয় টাস্কফোর্স, প্রবাসী কার্ড, দূতাবাস সংস্কার, পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণ এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। এরপর আলোচনা সমাপ্ত ঘোষণা করেন স্পিকার।

সাকিবের পর এবার দীঘির ‘পল্টি’?

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
সাকিবের পর এবার দীঘির ‘পল্টি’?

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি বিশেষ ছবি পোস্ট করে ভক্তদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে তুমুল সাড়া ফেলেছেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে কোন দলের সমর্থক তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ছবি পোস্ট করেন তিনি। এর আগে শনিবার (১৩ জুন) ব্রাজিলের জার্সি পরে তিনি পোস্ট করেছিলেন।

ব্রাজিলের জার্সি পরে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে ভক্তদের কাছে তিনি প্রশ্ন রেখে লেখেন, 'আজকের ম্যাচের জন্য উত্তেজিত? আমি ভীষণ উত্তেজিত।'

অন্যদিকে তিনি আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ছবি পোস্ট করে লেখেন, 'আমার সব আর্জেন্টিনীয় ভক্তদের জন্য ভালোবাসা। শুভকামনা!'

এর আগে একই ভক্তদের একইভাবে বিভ্রান্তিতে ফেলেছন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান। মনে প্রানে তিনি আর্জেন্টিনা সাপোর্টার। তবে বিশেষ এক ব্রাজিলের জার্সি পরে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের খেলা দেখতে নিউইয়র্কের মেট লাইফ স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, 'ব্রাজিলের ম্যাচ দেখব। জার্সিও কিনব ব্রাজিলের। পোস্ট দেব, পল্টি!’

তবে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও ব্রাজিলের জার্সি পরে স্টেডিয়ামে যাওয়ায় নেটিজেনরা মজা করে দীঘির এই দুই দলের জার্সি পরা পোস্টটিকেও ‘পল্টি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

হাকিমির সাথে নোরা ফাতেহির প্রেমের গুঞ্জন!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
হাকিমির সাথে নোরা ফাতেহির প্রেমের গুঞ্জন!

বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী, অভিনেত্রী ও গায়িকা নোরা ফাতেহি এখন শুধু ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনেই নন, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সমান পরিচিত এক নাম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত অফিশিয়াল গান ‘সির সির’-এ তার পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে ক্যারিয়ারের এই বৈশ্বিক সাফল্যের পাশাপাশি সম্প্রতি নোরার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক তোলপাড়। ক্রীড়া ও বিনোদন দুনিয়ায় এখন বড় প্রশ্ন মরক্কোর ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমির সঙ্গে কি সত্যিই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন নোরা ফাতেহি?

এই গুঞ্জনের সূত্রপাত মূলত গত ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (এএফকন) টুর্নামেন্ট থেকে। সে সময় মরক্কোর একটি ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নোরা। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে দাবি ওঠে, তিনি নাকি এক ‘রহস্যময় ফুটবলারকে’ সমর্থন জানাতেই বিশেষ আমন্ত্রণে মাঠে গিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমে সেই ফুটবলারের নাম হিসেবে উঠে আসে মরক্কো জাতীয় দল ও ফরাসি ক্লাব পিএসজি’র তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির নাম। জল্পনায় আরও ইন্ধন জোগায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ঘটনা। ভক্তদের নিখুঁত নজর দাবি করছে, সম্প্রতি হাকিমি নোরার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লাইক জানিয়েছেন। এরপর থেকেই দুজনকে নিয়ে সম্পর্কের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচেও সরাসরি মাঠে উপস্থিত ছিলেন নোরা ফাতেহি। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মরক্কো দলকে সমর্থন জানিয়ে একাধিক ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেন, যা এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।

ম্যাচ শুরুর আগে মরক্কোর খেলোয়াড়দের অনুশীলনের একটি ভিডিও পোস্ট করে নোরা ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা এখানে।’ পরে মরক্কো গোল করলে চরম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সেই মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। অন্যদিকে, ব্রাজিলের হয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে সমতা ফেরানোর পর সেই গোলের ভিডিও পোস্ট করে নোরা কেবল এক শব্দে নিজের হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, ‘নো’।

তবে নোরার এমন কর্মকাণ্ডকে প্রেমের নিরেট প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ নোরা নিজে বংশোদ্ভূতভাবে মরক্কান, ফলে নিজ দেশের প্রতি তার এই টান থাকতেই পারে। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত নোরা ফাতেহি কিংবা আশরাফ হাকিমি—কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তাদের একসঙ্গে তোলা কোনো ছবি, যৌথ উপস্থিতি বা আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতিও এখনো সামনে আসেনি।

উল্লেখ্য, আশরাফ হাকিমি ২০২০ সালে স্প্যানিশ অভিনেত্রী হিবা আবুককে বিয়ে করেছিলেন। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে তাদের এক আলোচিত বিচ্ছেদ ঘটে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পরে সন্তানদের যৌথভাবে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নেন তারা। হিবা আবুকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হাকিমির সঙ্গে ডাচ-মরোক্কান সুপারমডেল ইমান হাম্মামের সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, যদিও সেবারও দুজনের কেউ মুখ খোলেননি। এবার দেখার বিষয়, নোরা ফাতেহির সঙ্গে এই গুঞ্জন জল কতদূর গড়ায়!

চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এই আবেদন করেন। আদালত আদেশে লাশ তোলার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।’

আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) আদালত থেকে তথ্য প্রদানকারী নিলুফা জামান চৌধুরীর (নীলা চৌধুরী) পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে জানান যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী, বাদীর বোনের জামাই মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ্‌সহ তাঁরা নিউ ইস্কাটন রোডে ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তাঁর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমনের (সালমান শাহ) সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন স্ত্রী সামিরা হক ও কর্মচারী আবুল তাঁদের জানান, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তাঁরা তাঁদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, তাঁর কী যেন হয়েছে। তখন তাঁরা দ্রুত সালমান শাহর বাসায় গিয়ে দেখেন, সালমান শাহ তাঁর ঘরে বিছানার ওপর পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিক তাঁরা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হজরত শাহজালালের (র.) মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়।

পরে সালমান শাহর লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তুলে সুরতহালসহ ময়নাতদন্ত করা হয়। দুই দফা ময়নাতদন্তেই চিকিৎসক জানান, ফাঁসিতে ঝুলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে সালমান শাহর।

ঘটনার ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁর লাশ পুনরায় কবর থেকে তুলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন।

হত্যা মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বাদী মো. আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন যে, সালমান শাহ ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমান শাহর কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তাঁরা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শাহ শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তাঁরা সালমানের গলায় দড়ির এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তাঁরা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মো. আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী তাঁর মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর মোহাম্মদ আলমগীর তাঁর বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

শাকিরাকে দিয়ে শুরু, লিসার পারফরম্যান্সে শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
শাকিরাকে দিয়ে শুরু, লিসার পারফরম্যান্সে শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা ও ব্ল্যাকপিংক ব্যান্ডের লিসা। ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহাসিক হতে চলেছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো তিনটি ভিন্ন দেশে তিনটি জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্টের।

মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র এই তিন আয়োজক দেশের তিনটি ভিন্ন স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করবেন সংস্কৃতির এক দারুণ মেলবন্ধন ও বৈশ্বিক তারকাদের চোখ ধাঁধানো পরিবেশনা। প্রতিটি আয়োজক দেশের নিজস্ব উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক ৯০ মিনিট আগে এই অনুষ্ঠানগুলো শুরু হবে।


বিশ্বকাপের এই উদ্বোধনী ত্রয়ীর সূচনা হচ্ছে আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকাতে।

বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হতে যাওয়া এই প্রথম অনুষ্ঠানে ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয় যৌথভাবে এবারের আসরের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন। মেক্সিকোর ঐতিহ্য ও আধুনিক ল্যাটিন সুরের মিশেলে সাজানো এই অনুষ্ঠানে আরও থাকছেন জে বালভিন এবং পপ ব্যান্ড মানার মতো জনপ্রিয় তারকারা।


পর দিন শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী আয়োজন। কানাডিয়ান সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে এই মঞ্চে পারফর্ম করবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং আলিসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীরা।

সবশেষে শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বসবে উদ্বোধনী ত্রয়ীর শেষ আসর। হলিউড ঘরানার এই চোখ ধাঁধানো আয়োজনে মঞ্চ মাতাবেন ক্যাটি পেরি, ব্ল্যাকপিংক ব্যান্ডের লিসা, ফিউচার এবং অ্যানিত্তার মতো জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক তারকারা।

পুরো টুর্নামেন্টের এই উদ্বোধনী পর্বগুলোর মূল থিম তৈরি করা হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিকে কেন্দ্র করে, যা প্রতিটি দেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী টেলিভিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এই জমকালো আয়োজন সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন।

নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ, অভিযোগ প্রমাণে হতে পারে কোন সাজা?

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ, অভিযোগ প্রমাণে হতে পারে কোন সাজা?
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর আজ ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় দেবেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন তামিমা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান ইসরাত হাসান বলেন, আমরা চাই, আসামিদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মামলার বিচার চলেছে। বিভিন্ন বিষয় চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে রিভিশন করেছে। ১০ জন সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে আশা করছি। নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দুই ধারায় ও তামিমার বিরুদ্ধে তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর ও তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আমাদের আশা পজিটিভ। আসামিরা খালাস পাবেন আশা করছি। তারা কেন খালাস পাবেন যুক্তিতর্কে তুলে ধরেছি।

রায় শুনতে নাসির-তামিমা আদালতে আসবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, আশা করি, আসবেন।

মামলার বাদী রাকিব বলেন, ইনশাআল্লাহ, ন্যায় বিচার হোক। এ ধরনের কাজ যেন আর না হয়। রায়ের মাধ্যমে একটা ম্যানেজ যাক সমাজে। আমার সাথে যেমনটা ঘটেছে, যেন আর কারও সঙ্গে এমনটা না হয়।

এ বিষয়ে নাসির হোসেনের বক্তব্য শুনতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।