ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'বি'-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে সুইসদের হারিয়ে বড় ধরনের চমক দেখানোর ব্যাপারে আশাবাদী কাতারি শিবির।
চার বছর আগে ঘরের মাঠে আয়োজক দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল কাতার। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং কঠিন এক সমীকরণের মুখোমুখি কোচ জুলেন লোপেতেগুইয়ের দল।
শনিবার রাতের এই ম্যাচে শক্তির বিচারে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সুইসদের অবস্থান যেখানে ১৯ নম্বরে, সেখানে কাতার রয়েছে ৫৬তম স্থানে। এর আগে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সুইজারল্যান্ড এবারও কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে দারুণ ফর্মে রয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল সান্ডারল্যান্ডের অভিজ্ঞ অধিনায়ক গ্রানিত জাকা এবং ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার আকুঞ্জির মতো তারকারা দলটির প্রধান ভরসা।
অন্যদিকে কাতারের বেশিরভাগ ফুটবলারই আল সাদ কিংবা আল আরবির মতো ঘরোয়া ক্লাবে খেলেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার অনভিজ্ঞতা দলটিকে কিছুটা ব্যাকফুটে রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাছাড়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শেষ ম্যাচগুলোতে কাতারের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। প্রস্তুতি ম্যাচে তারা রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে এবং এল সালভাদরের সাথে গোলশূন্য ড্র করেছে। শেষ ৫ ম্যাচে কাতারের পা থেকে এসেছে মাত্র ১টি গোল। ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের এই অদক্ষতা প্রধান কোচ লোপেতেগুইয়ের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপরীতে বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সুইজারল্যান্ড রীতিমতো উড়ছে। বাছাইপর্বের ৮ ম্যাচে ১৪ গোল করার পাশাপাশি তারা হজম করেছে মাত্র ২টি গোল। সুইসদের এই সুসংগঠিত ও কঠোর রক্ষণব্যূহ ভাঙা কাতারের আক্রমণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
তবে কাতার শিবির আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে অতীত ইতিহাস থেকে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এই দুই দলের একমাত্র দেখায় আকরাম আফিফের করা একমাত্র গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়েছিল কাতার। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন সান ফ্রান্সিসকোর মাঠে, যেখানে কাতার তাদের সেই পুরোনো ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করে সুইস ঘড়ির ছন্দ বিগড়ে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।