১৭ জুন ২০২৬
শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ইতিহাস গড়ল কাতার;

সুইজারল্যান্ডকে স্তব্ধ করে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট

ম্যাচ জুড়ে আক্রমণে দাপট দেখাল সুইজারল্যান্ড। জয়ের পথেই ছিল তারা। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল চিত্র। বেশিরভাগ সময় দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থেকেও হারের মুখ থেকে স্মরণীয় এক পয়েন্ট পেল কাতার।
প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
সুইজারল্যান্ডকে স্তব্ধ করে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট
দলকে মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেওয়া গোলের পর কাতার অধিনায়ক বুয়ালাম খোখির উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

স্যান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া স্টেডিয়ামে শনিবার ৬৭ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।

ব্রিল এমবোলোর স্পট কিকে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সমতা টানেন কাতার অধিনায়ক বুয়ালাম খোখি।

বিশ্বকাপে কাতারের এটি দ্বিতীয় গোল ও প্রথম পয়েন্ট। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে তিন ম্যাচেই হারে তারা, গোল করে একটি।

এই নিয়ে নিজেদের সবশেষ সাত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত রইল সুইসরা (৩ জয় ও ৪ ড্র)। তবে কাতারের বিপক্ষে জয়ের দুয়ারে থেকে এভাবে পয়েন্ট হারানো নিশ্চয় অনেক পোড়াবে তাদের।

গোটা ম্যাচে ৬৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সুইজারল্যান্ড। কাতারের সাত শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।

টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন থেকে বিশ্বকাপে আসা কাতারই পায় ম্যাচের প্রথম সুযোগ। সুইস রক্ষণের দুর্বলতায় বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এডমিলসন জুনিয়র। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক, কিন্তু তার শটে জোর ছিল না তেমন। পা দিয়ে আটকে দেন গ্রেগর কোবেল।

ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের পাস বক্সে পেয়ে জোরাল নিচু শট নেন এনদোয়ে, ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। দশম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পান তিনি, কিন্তু পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গার।

সময়ের সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেয় সুইজারল্যান্ড। সপ্তদশ মিনিটে এমবোলোর সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় তারা। বক্সে দলটির রেমো ফ্রয়লারকে কাতার গোলরক্ষক ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।

কামেরুনে জন্ম নেওয়া ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এমবোলোর সুইজারল্যান্ডের হয়ে গোল হলো ২৫টি।

২১তম মিনিটে আবার সুযোগ আসে সুইসদের সামনে। এবার দেনিস সাকারিয়ার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। ৩৬তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পেয়ে বাইরে মারেন তিনি।

আক্রমণে সুইজারল্যান্ডের দাপটের মাঝে ৪৩তম মিনিটে দ্বিতীয় সুযোগ পায় কাতার। এডমিলসনের কোনাকুনি শট পা দিয়ে ঠেকান কোবেল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর তিনটি ভালো সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। প্রথম দুটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, অন্যটি গোললাইন থেকে ফেরান কাতারের ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ইতিবাচক করে সুইসরা। ৫০তম মিনিটে দলটির অধিনায়ক গ্রানিত জাকার দূরপাল্লার শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

পরে খেলার গতি কমে আসে। ৭৫তম মিনিটে দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম লক্ষ্যে শট রাখতে পারে সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে রুবেন ভার্গাসের শট ঠেকান গোলরক্ষক। কয়েক সেকেন্ড পরই একইরকম পজিশনে থেকে এমবোলোর শট পাশের জালে লাগে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিটে একটিই বলার মতো সুযোগ পায় কাতার। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আহমেদ আলার সেই শট সহজেই ঠেকান কোবেল।

সুইজারল্যান্ডের জয় মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। এরপরই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ওই মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে হোমাম আহমেদের ক্রসে ছয় গজ বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের ওপর লাফিয়ে জোরাল হেডে বল জালে পাঠান খোখি। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা কাতার শিবির।

জর্ডানের দাপুটে খেলার মাঝেও ৩-১ গোলের জয় পেল অস্ট্রিয়া

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
জর্ডানের দাপুটে খেলার মাঝেও ৩-১ গোলের জয় পেল অস্ট্রিয়া
জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রিয়া। ছবি: এএফপি

এটা আমি কী করলাম—জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরব হয়তো এটা ভেবেই এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন। সান ফ্রান্সিসকো স্টেডিয়ামে আজ যেখানে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে দাপট দেখিয়ে খেলছিল জর্ডান, সেখানে আত্মঘাতী গোলটাই এগিয়ে দিয়েছে অস্ট্রিয়া। আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়ে ব্যবধানটা আরও বাড়িয়ে ৩-১ গোলে জিতেছে ইউরোপের এই দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রিয়ার রক্ষণদুর্গে বারবার হানা দিতে থাকেন জর্ডানের ফুটবলাররা। ২ মিনিটে জর্ডান ডিফেন্ডার এহসান হাদ্দাদ ডান পায়ে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। ৯ মিনিটে দলটির ফরোয়ার্ড মুসা আল-তামারি ফের গোলের চেষ্টা করেন।

তবে তাঁর শট প্রতিহত করেন অস্ট্রিয়া গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্লাগার। ১১ মিনিটে এরপর প্রতি আক্রমণে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা গোলের চেষ্টা করেও সফল হননি।

১৭ মিনিটে জর্ডান ফরোয়ার্ড ওদাই আল-ফাখুরি অস্ট্রিয়ার লক্ষ্য বরাবর শট নিলেও তা প্রতিহত করেছেন অস্ট্রিয়া গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্লাগার। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে প্রথম গোল করে অস্ট্রিয়া। ২১ মিনিটে জাভার শ্লাগারের অ্যাসিস্টে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন রোমানো শ্মিড।

জর্ডান এরপর সমতায় ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও অস্ট্রিয়া গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্লাগার বারবার তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর প্রথমার্ধের শেষের দিকে এসে মুসা আল তামারি একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।

মেসির অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়া বিধ্বস্ত; ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শুরু

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
মেসির অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়া বিধ্বস্ত; ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শুরু

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের দিনটি যেন আগে থেকেই শুধুই লিওনেল মেসির গল্প হয়ে থাকার জন্য নির্ধারিত ছিল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পুরোটা জুড়েই তো রইলেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। গোল করলেন, করলেন হ্যাটট্রিক কে জানত ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের শুরুটা করবেন কেবল ইতিহাস আর ইতিহাস দিয়ে!

ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের একটি করে গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে মাঠে কিছুটা নাটকীয়তার তৈরি হয়েছিল। তবে সেই আবহ বেশি সময় টেকেনি, কারণ ম্যাচের ১৬ মিনিটেই শুরু হয় মেসি জাদু। রদ্রিগো দে পলের পাস থেকে আলজেরিয়ার ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এরপর তাঁর সেই চেনা শরীরী মোচড়ে এক দুর্দান্ত টার্ন এবং বাঁ পায়ের জাদুকরী শটে বল পাঠান জালে।

এই চোখধাঁধানো গোলের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মেসির পায়েই। মাঝমাঠের সাধারণ কিছু আক্রমণ বাদ দিলে ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও আলোর ঝলকানি দেখান তিনি। আলেক্সিস মাক আলিস্তারের নেওয়া একটি দূরপাল্লার জোরালো শট ঠিকমতো তালুবন্দী করতে পারেননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। বল হাত থেকে ফসকে যেতেই সেখানে ওত পেতে থাকা মেসি চিতার গতিতে এক সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়ান।

তবে মেসির রূপকথা তখনো শেষ হতে বাকি ছিল। ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এক বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে ছুটে যান তিনি। সতীর্থের সঙ্গে চমৎকার এক ‘ওয়ান-টু’ করে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানান। এরপর বক্সের বাইরে থেকে থেকে নিখুঁত এক শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। গ্যালারিতে বসা লুকা জিদানের বাবা, ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান তখন কেবল রুক্ষ মুখে মাথা নাড়ছিলেন। এই ঐতিহাসিক গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন মেসি। শুদু তা–ই নয়, ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে পেলেন প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা।

হ্যাটট্রিক উদযাপনের পর ৮০ মিনিটে যখন কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে এই ফুটবল জাদুকরকে সম্মান জানায়। সাধারণ ফুটবলীয় লড়াই ছাপিয়ে এই ম্যাচটি তাই আর্জেন্টিনার জয়ের চেয়েও বেশি মনে থাকবে বিশ্বমঞ্চে মেসির আরেক মহাকাব্য হিসেবে

রিভেলিনোর ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ডে মেসি; বক্সের বাইরে থেকে ৫ গোলের বিশ্বকীর্তি

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
রিভেলিনোর ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ডে মেসি; বক্সের বাইরে থেকে ৫ গোলের বিশ্বকীর্তি
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো রিভেলিনোর (বাঁয়ে) রেকর্ড ছুঁয়েছেন লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি

৫ মিনিটের সময় গোল পেয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু লাইনসম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় থেমে যায় উদযাপন। তবে রেকর্ড ভাঙা-গড়া যে মেসির কাছে খুবই সহজ, তাঁকে থামানোর সাধ্য কার! কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গোল বাতিলের ১২ মিনিট পর গোল করে ছুঁলেন ৬০ বছরের এক পুরোনো রেকর্ড।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আজ ১৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের কাছ থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি। গোলের পর এবার মেসিকে থামাবেন কে! জাদুকরী এই গোলের আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে গোল হলো ১৪। যার মধ্যে পাঁচটিই করেছেন বক্সের বাইরে থেকে। ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা অপ্টা জো নিজেদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, ১৯৬৬ থেকে শুরু করে বক্সের বাইরে থেকে ৫ গোল করার কীর্তি মেসির পাশাপাশি রয়েছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো রিভেলিনোর।

মেসির গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনামেসির গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা
৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ডের পাশাপাশি মেসি ১৬ জুন তারিখকেও এক বিন্দুতে মিলিয়েছেন। ২০০৬ সালের ১৬ জুন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকে গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার কীর্তি গড়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। প্রতিপক্ষ ছিল সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো। ২০ বছর পর আরেক ১৬ জুন আর্জেন্টিনার হয়ে বয়স্ক গোলদাতা বনে গেলেন। কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোলের সময় মেসির বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। বাংলাদেশ সময় আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ ১৭ জুন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হিসেবে ১৬ জুন হচ্ছে।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়লেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০তম ম্যাচে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেন মেসি। প্রথমার্ধ শেষে আর্জেন্টিনা এগিয়ে ১-০ গোলে। এই গোলে মেসি ছুঁয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও। মেসি, রোনালদো প্রত্যেকেই আলাদা পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের কীর্তি গড়েছেন।

হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মাইলফলকে ভাগ বসালেন লিওনেল মেসি। এর আগে ১৬ গোল করে এ রেকর্ড করেছিলেন মিরোস্লাব ক্লোসা। এখন যৌথভাবে ক্লোসার পাশে নাম লেখালেন মেসি।

বেশ কয়েকটি রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে থেকে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠ আসর খেলার রেকর্ড গড়লেন তিনি।

সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

আরেকটু আগেই হ্যাটট্রিকটা পেতে পারতেন মেসি। আলজেরিয়া গোলরক্ষস লুকা জিদান দারুণ দক্ষতায় শট ঠেকিয়েছেন তার। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা গেল না। ৭৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থাকা মাটি কামড়ানো জোরালো শটে আর্জেন্টিনা ও নিজের তৃতীয় গোলটি করলেন মেসি। যা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ২৭তম ম্যাচ খেলতে নেমে তার প্রথম হ্যাটট্রিক।

মেসির জোড়া গোলে ব্যবধান বাড়াল আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
মেসির জোড়া গোলে ব্যবধান বাড়াল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পেয়েছিল দুই দল। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় বাতিল হয়ে গেছে সেসব। তবে ১৭ মিনিটে আর কোনও ভুল করেননি লিওনেল মেসি। তার গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই স্কোরলাইন-ই অক্ষত থাকে। বিরতির পর আবারও জালে বল পাঠান মেসি। তার জোড়াতে এখন আর্জেন্টিনা এগিয়ে ২-০ গোলে।

অথচ এর আগেও গোলের দেখা পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ষষ্ঠ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণে শট নিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য বিল্ডআপের সময় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

দুই মিনিট পর জাল কাঁপিয়ে আনন্দে মেতেছিল আলজেরিয়াও। বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই দারুণ এক ফিনিশে জাল খুঁজে নিয়েছিলেন শাইবি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রেফারি বাঁশি বাজিয়ে জানিয়ে দেন বৈধ নয় এই গোলটিও।

তবে ১৭ মিনিটে আর কোনও ঝামেলা হয়নি। আর্জেন্টিনার ফ্রি-কিকের সময় মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিল আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো দে পল ডিফেন্স ভেদ করে বল বাড়িয়ে দেন তার সতীর্থ লিওনেল মেসির দিকে। মুহূর্তেই ক্ষীপ্র গতিতে ছুটে চলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ড্রিবল করতে করতে পেনাল্টি এলাকার কিনারায় পৌঁছান। এরপর বলটি নিজের বাঁ পায়ে এনে দুর্দান্ত এক শটে দলকে লিড এনে দেন তিনি।

এর আগে চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেড করেছিলেন লাউতারো মার্তিনেজ। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের হেড সরাসরি গিয়ে জমা হয় গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতে।

প্রথম গোল পাওয়ার পর অবশ্য তাড়াহুড়ো করেনি আর্জেন্টিনা। বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া আক্রমণাত্মক সেভাবে কিছু করতে পারেনি।