১৭ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে নাটকীয় লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করল ইরান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ জি’র ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে দারুণ এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলে ড্র হয়ে, যেখানে দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইরান। এর ফলে গ্রুপ 'জি'-এর দুইটি ম্যাচই ড্র হলো, এতে এই গ্রুপের চার দলই সমান ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে।

এদিন লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগেই ফুটবলের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল রাজনীতি। শুরু হয় প্রতিবাদও। অন্যদিকে গ্যালারিতে উড়ছিল নানা পতাকা, জাতীয় সংগীতে শোনা গেছে দুয়ো ও সমর্থনের মিশ্র সুর। সেই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই মাঠে রোমাঞ্চ ছড়াল ইরান ও নিউজিল্যান্ড। দুইবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি ইরান। এলিজাহ জাস্টের জোড়া গোলে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

কিন্তু রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেব্বির গোলে দুবারই ম্যাচে ফিরে আসে ইরান। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ ‘জি’র ম্যাচ শেষ হয় ২-২ গোলে।

ম্যাচের আগে থেকেই নজর ছিল গ্যালারিতে। ইরানি সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় তিন ধরনের পতাকা, ইরানের বর্তমান সরকারি পতাকা, প্রাক-বিপ্লবী ‘সান অ্যান্ড লায়ন’ পতাকা এবং প্রতীকবিহীন সবুজ-সাদা-লাল পতাকা। ফিলিস্তিনি পতাকাও দেখা গেছে গ্যালারির এক পাশে।

ইরানের জাতীয় সংগীত বাজতেই স্টেডিয়ামের এক অংশ থেকে দুয়ো ভেসে আসে। আবার অনেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। মাঠের বাইরে প্রতিবাদ থাকলেও মাঠে ইরান শুরু করে দারুণ উদ্দীপনায়। কিক-অফের পরপরই উচ্চ প্রেসে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলে তারা।

কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লম্বা বল ধরে রাখেন ক্রিস উড। এরপর ডান পাশে থাকা এলিজাহ জাস্টকে পাস দেন তিনি। জায়গা বের করে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান জাস্ট। শুরুতে ভালো খেলেও পিছিয়ে পড়ে ইরান।

গোলের পরও ম্যাচের গতি কমেনি অবশ্য। ১২ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শট নেন সারপ্রিত সিং, তবে সেটি লক্ষ্যে ছিল না। ১৫ মিনিটে নিউজিল্যান্ড কর্নার পায়। ছোট পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে উড দ্রুত ঘুরে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইরানের রক্ষণ সেটি আটকে দেয়।

১৭ মিনিটের পর থেকে ম্যাচ আরও খোলা হয়ে ওঠে। দুই দলই দ্রুত আক্রমণে উঠছিল। ১৯ মিনিটে দূর থেকে শট নেন সারপ্রিত সিং, তবে বেইরানভান্দ সহজেই বল ধরেন। ২৩ মিনিটে ইরান পায় বড় সুযোগ। মাঝপথ দিয়ে উঠে দূরপাল্লার শট নেন তারেমি। ক্রোকম্বকে হারালেও বল ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

২৫ মিনিটে প্রথম কুলিং ব্রেক হয়। বিরতির পরও ইরানের চাপ চলতে থাকে। ২৯ মিনিটে তারেমির চাপের মুখে ক্রোকম্ব বল থেকে দূরে সরে যান। সুযোগ দেখে সামান ঘোদ্দোস দূর থেকে ভলিতে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু শট ঠিকমতো জমেনি।

অবশেষে ৩২ মিনিটে সমতায় ফেরে ইরান। একের পর এক আক্রমণে নিউজিল্যান্ড রক্ষণকে চাপে রাখছিল তারা। ঘোদ্দোস সামনে পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন, মোগানলু পড়ে যান। কাছেই থাকা রেজাইয়ান দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় ডান পায়ে বল জালে পাঠান। ক্রোকম্বকে ফাঁকি দিয়ে বল যায় নিচের বাঁ কোণে। স্কোরলাইন হয় ১-১।

ইরানের সমতার পর গ্যালারির এক অংশ থেকে দুয়ো শোনা যায়। তবে একই সঙ্গে ইরানি সমর্থকদের উল্লাসও বাড়তে থাকে। শেষ ১০ মিনিটে তাদের সমর্থন আরও জোরালো হয়।

৩৮ মিনিটে নিউজিল্যান্ড খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে পেছন থেকে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে। ৪৪ মিনিটে ইরানি রক্ষণ কাকাচেকে ফাউল করলে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় নিউজিল্যান্ড। ৪৫ মিনিটে উডের নিচু শট সরাসরি বেইরানভান্দের হাতে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটে। ৪৫+১ মিনিটে দূর থেকে শট নেন ম্যাককোয়াট, তবে সেটি ছিল দুর্বল। ৪৫+৩ মিনিটে লং থ্রো থেকে পেছন ঘুরে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন মোগানলু, বল জালের ওপর দিয়ে যায়। ৪৫+৫ মিনিটে প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল ইরান। প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে হেড করেন নেমাতি। বল জালে গেলেও অফসাইডের পতাকায় থেমে যায় ইরানের উদযাপন।

প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। শুরুতে ইরানের উচ্চ প্রেস, নিউজিল্যান্ডের পাল্টা আঘাত এবং পরে রেজাইয়ানের গোলে ম্যাচ তখনই জমে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। ৪৬ মিনিটে তারেমির দিকে পাঠানো লম্বা বল দারুণভাবে ক্লিয়ার করেন ফিন সারম্যান। ৪৭ মিনিটে দূর থেকে শট নেন উড, তবে বল পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৪৯ মিনিটে রেজাইয়ানের কর্নার হেড করে ফেরান সারম্যান। ফিরতি আক্রমণে ঘায়েদির শটও আটকে যায়।

৫১ মিনিটে ডান দিক থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শট নেন মোগানলু, কিন্তু বল দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৫৩ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনে ইরান। মোগানলুর জায়গায় নামেন আলি আলিপুর।

এর এক মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উডের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন জাস্ট। সামনে এগিয়ে আসা বেইরানভান্দের ওপর দিয়ে তুলে দেন বল। সেটি জালে জড়ালে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল পান জাস্ট, আর নিউজিল্যান্ড এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

গোলের পর কিছুটা ধাক্কা খেলেও দ্রুত আক্রমণে ফেরে ইরান। ৫৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ক্রস পেয়ে হেড নেন তারেমি। ক্রোকম্ব এগিয়ে এসে প্রথম হেড ঠেকান। বল কাছেই থাকা মোহেব্বির দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু আবারও ঝাঁপিয়ে বিপদ দূর করেন নিউজিল্যান্ড গোলরক্ষক। পরে অফসাইডের বাঁশি বাজে।

৬০ মিনিটের পর ম্যাচ আরও উন্মুক্ত হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ড তখন বল ছাড়া অপেক্ষা করে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয়। ইরান বারবার চাপ বাড়াতে থাকে। ৬৪ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় তারা। ডান দিক থেকে রেজাইয়ানের ক্রসে দারুণ হেড করেন মোহেব্বি। বল যায় গোলের নিচের বাঁ কোণে। স্কোরলাইন ২-২।

গোলের পর ইরানি সমর্থকেরা আবারও গর্জে ওঠেন। ৬৫ মিনিটে ঘোদ্দোসের জায়গায় এহসান হাজসাফিকে নামায় ইরান। ৬৯ মিনিটে ক্রোকম্বের চিকিৎসার সময় কুলিং ব্রেক হয়। নিউজিল্যান্ডও তখন পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেয়।

শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচে শারীরিক লড়াই বাড়তে থাকে। ৭৫ মিনিটের দিকে ইরান আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল, আর নিউজিল্যান্ড তুলনামূলক ধৈর্য ধরে শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। ৭৮ মিনিটে টিম পেইনের জায়গায় কালান এলিয়টকে নামায় নিউজিল্যান্ড।

৮০ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করেন তারেমি, কিন্তু বল অনেক ওপর দিয়ে যায়। এরপরই তাকে তুলে নিয়ে আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহকে নামায় ইরান।

৮৩ মিনিটে উডের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখে আঘাত পান খালিলজাদে। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন এজাতোলাহি, কিন্তু বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে যায়। ৮৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে কার্লিং শট নেন মোহেব্বি, তবে সেটি সরাসরি ক্রোকম্বের হাতে যায়।

৮৯ মিনিটে খারাপ ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন হাজসাফি। একই মিনিটে কর্নার পায় ইরান। বাঁ দিক থেকে আসা কর্নারের পর বল বক্সের ডান পাশে পড়ে, কিন্তু শেষ শটটি ঠিকমতো নিতে পারেনি তারা। দ্রুত বল ক্লিয়ার করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ড।

যোগ করা সময় ছিল পাঁচ মিনিট। ৯০+৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ক্রস পেয়ে বল লক্ষ্যে পাঠানোর চেষ্টা করেন উড। তবে তার চেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন বেইরানভান্দ। ৯০+৪ মিনিটে শেষবারের মতো কর্নার পায় ইরান। বাঁ দিক থেকে উড়ে আসা বলে দূরের পোস্টে হেড করেন একজন ইরানি খেলোয়াড়। বল আবার গোলমুখে ফিরছিল, কিন্তু থমাস পেছনের দিকে হেড করে বিপদ সরিয়ে দেন। আর কোনো ইরানি খেলোয়াড় বল ছুঁতে পারেননি।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে শেষ বাঁশি বাজে। ২-২ ড্র নিয়েই শেষ হয় ইরান-নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর লড়াই।

উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে ফর্মে এগিয়ে ছিল ইরান। শেষ পাঁচ ম্যাচে তাদের ফর্ম ছিল জয়-জয়-জয়-হার-ড্র। মালি, গাম্বিয়া ও কোস্টারিকার বিপক্ষে শেষ তিন প্রীতি ম্যাচ জিতেছিল তারা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ফর্ম ছিল হার-হার-হার-হার-ড্র। ২০২৫ সালের জুনে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের পর আর কোনো ম্যাচ জেতেনি তারা।

জর্ডানের দাপুটে খেলার মাঝেও ৩-১ গোলের জয় পেল অস্ট্রিয়া

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
জর্ডানের দাপুটে খেলার মাঝেও ৩-১ গোলের জয় পেল অস্ট্রিয়া
জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রিয়া। ছবি: এএফপি

এটা আমি কী করলাম—জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরব হয়তো এটা ভেবেই এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন। সান ফ্রান্সিসকো স্টেডিয়ামে আজ যেখানে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে দাপট দেখিয়ে খেলছিল জর্ডান, সেখানে আত্মঘাতী গোলটাই এগিয়ে দিয়েছে অস্ট্রিয়া। আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়ে ব্যবধানটা আরও বাড়িয়ে ৩-১ গোলে জিতেছে ইউরোপের এই দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রিয়ার রক্ষণদুর্গে বারবার হানা দিতে থাকেন জর্ডানের ফুটবলাররা। ২ মিনিটে জর্ডান ডিফেন্ডার এহসান হাদ্দাদ ডান পায়ে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। ৯ মিনিটে দলটির ফরোয়ার্ড মুসা আল-তামারি ফের গোলের চেষ্টা করেন।

তবে তাঁর শট প্রতিহত করেন অস্ট্রিয়া গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্লাগার। ১১ মিনিটে এরপর প্রতি আক্রমণে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা গোলের চেষ্টা করেও সফল হননি।

১৭ মিনিটে জর্ডান ফরোয়ার্ড ওদাই আল-ফাখুরি অস্ট্রিয়ার লক্ষ্য বরাবর শট নিলেও তা প্রতিহত করেছেন অস্ট্রিয়া গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্লাগার। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে প্রথম গোল করে অস্ট্রিয়া। ২১ মিনিটে জাভার শ্লাগারের অ্যাসিস্টে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন রোমানো শ্মিড।

জর্ডান এরপর সমতায় ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও অস্ট্রিয়া গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্লাগার বারবার তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর প্রথমার্ধের শেষের দিকে এসে মুসা আল তামারি একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।

মেসির অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়া বিধ্বস্ত; ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শুরু

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
মেসির অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়া বিধ্বস্ত; ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শুরু

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের দিনটি যেন আগে থেকেই শুধুই লিওনেল মেসির গল্প হয়ে থাকার জন্য নির্ধারিত ছিল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পুরোটা জুড়েই তো রইলেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। গোল করলেন, করলেন হ্যাটট্রিক কে জানত ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের শুরুটা করবেন কেবল ইতিহাস আর ইতিহাস দিয়ে!

ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের একটি করে গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে মাঠে কিছুটা নাটকীয়তার তৈরি হয়েছিল। তবে সেই আবহ বেশি সময় টেকেনি, কারণ ম্যাচের ১৬ মিনিটেই শুরু হয় মেসি জাদু। রদ্রিগো দে পলের পাস থেকে আলজেরিয়ার ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এরপর তাঁর সেই চেনা শরীরী মোচড়ে এক দুর্দান্ত টার্ন এবং বাঁ পায়ের জাদুকরী শটে বল পাঠান জালে।

এই চোখধাঁধানো গোলের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মেসির পায়েই। মাঝমাঠের সাধারণ কিছু আক্রমণ বাদ দিলে ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও আলোর ঝলকানি দেখান তিনি। আলেক্সিস মাক আলিস্তারের নেওয়া একটি দূরপাল্লার জোরালো শট ঠিকমতো তালুবন্দী করতে পারেননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। বল হাত থেকে ফসকে যেতেই সেখানে ওত পেতে থাকা মেসি চিতার গতিতে এক সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়ান।

তবে মেসির রূপকথা তখনো শেষ হতে বাকি ছিল। ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এক বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে ছুটে যান তিনি। সতীর্থের সঙ্গে চমৎকার এক ‘ওয়ান-টু’ করে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানান। এরপর বক্সের বাইরে থেকে থেকে নিখুঁত এক শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। গ্যালারিতে বসা লুকা জিদানের বাবা, ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান তখন কেবল রুক্ষ মুখে মাথা নাড়ছিলেন। এই ঐতিহাসিক গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন মেসি। শুদু তা–ই নয়, ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে পেলেন প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা।

হ্যাটট্রিক উদযাপনের পর ৮০ মিনিটে যখন কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে এই ফুটবল জাদুকরকে সম্মান জানায়। সাধারণ ফুটবলীয় লড়াই ছাপিয়ে এই ম্যাচটি তাই আর্জেন্টিনার জয়ের চেয়েও বেশি মনে থাকবে বিশ্বমঞ্চে মেসির আরেক মহাকাব্য হিসেবে

রিভেলিনোর ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ডে মেসি; বক্সের বাইরে থেকে ৫ গোলের বিশ্বকীর্তি

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
রিভেলিনোর ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ডে মেসি; বক্সের বাইরে থেকে ৫ গোলের বিশ্বকীর্তি
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো রিভেলিনোর (বাঁয়ে) রেকর্ড ছুঁয়েছেন লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি

৫ মিনিটের সময় গোল পেয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু লাইনসম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় থেমে যায় উদযাপন। তবে রেকর্ড ভাঙা-গড়া যে মেসির কাছে খুবই সহজ, তাঁকে থামানোর সাধ্য কার! কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গোল বাতিলের ১২ মিনিট পর গোল করে ছুঁলেন ৬০ বছরের এক পুরোনো রেকর্ড।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আজ ১৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের কাছ থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি। গোলের পর এবার মেসিকে থামাবেন কে! জাদুকরী এই গোলের আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে গোল হলো ১৪। যার মধ্যে পাঁচটিই করেছেন বক্সের বাইরে থেকে। ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা অপ্টা জো নিজেদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, ১৯৬৬ থেকে শুরু করে বক্সের বাইরে থেকে ৫ গোল করার কীর্তি মেসির পাশাপাশি রয়েছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো রিভেলিনোর।

মেসির গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনামেসির গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা
৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ডের পাশাপাশি মেসি ১৬ জুন তারিখকেও এক বিন্দুতে মিলিয়েছেন। ২০০৬ সালের ১৬ জুন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকে গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার কীর্তি গড়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। প্রতিপক্ষ ছিল সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো। ২০ বছর পর আরেক ১৬ জুন আর্জেন্টিনার হয়ে বয়স্ক গোলদাতা বনে গেলেন। কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোলের সময় মেসির বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। বাংলাদেশ সময় আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ ১৭ জুন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হিসেবে ১৬ জুন হচ্ছে।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়লেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০তম ম্যাচে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেন মেসি। প্রথমার্ধ শেষে আর্জেন্টিনা এগিয়ে ১-০ গোলে। এই গোলে মেসি ছুঁয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও। মেসি, রোনালদো প্রত্যেকেই আলাদা পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের কীর্তি গড়েছেন।

হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মাইলফলকে ভাগ বসালেন লিওনেল মেসি। এর আগে ১৬ গোল করে এ রেকর্ড করেছিলেন মিরোস্লাব ক্লোসা। এখন যৌথভাবে ক্লোসার পাশে নাম লেখালেন মেসি।

বেশ কয়েকটি রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে থেকে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠ আসর খেলার রেকর্ড গড়লেন তিনি।

সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

আরেকটু আগেই হ্যাটট্রিকটা পেতে পারতেন মেসি। আলজেরিয়া গোলরক্ষস লুকা জিদান দারুণ দক্ষতায় শট ঠেকিয়েছেন তার। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা গেল না। ৭৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থাকা মাটি কামড়ানো জোরালো শটে আর্জেন্টিনা ও নিজের তৃতীয় গোলটি করলেন মেসি। যা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ২৭তম ম্যাচ খেলতে নেমে তার প্রথম হ্যাটট্রিক।

টানা ৫ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
টানা ৫ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির

আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের প্রথমার্ধেই রেকর্ডের পাতায় নাম লিখিয়েছেন লিওনেল মেসি। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামার কীর্তি গড়েছেন তিনি। পাশাপাশি ম্যাচের মাত্র ১৬তম মিনিটের মাথায় আলজেরিয়ার জালে বল পাঠিয়ে নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায় পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করেছেন তিনি।

২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। একমাত্র ২০১০ সালে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।

৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার দলটির প্রাণভোমরা। দেশের জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ খেলার এক অনন্য মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।

টানা ৫ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির

শুরুতেই স্কোরশিটে নাম তুলেছিলেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই গোল অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। আলজেরিয়ার একটি গোলও একই ফল দেখেছিল।

তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। ১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে মেসিই এগিয়ে দিলেন আলবিসেলেস্তেদের।

কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ শুরুর পর গোল পেতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনার। নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি দেখালেন সেই চিরচেনা বাঁ পায়ের জাদু।

বলটি মিডফিল্ড থেকে বাড়িয়েছিলেন রদ্রিগো ডি পল। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ২৫ গজ দূর থেকেই মেসি শটটা নেন, আলজেরিয়ার গোলরক্ষক ও জিনেদিন জিদানপুত্র লুকা জিদান তাতে হাত ছুঁয়েছেন। কিন্তু মেসির দুর্দান্ত শট তাকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়।