২০ জুন ২০২৬

আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন স্টিভ উইটকফ ও আব্বাস আরাগচি

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন স্টিভ উইটকফ ও আব্বাস আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। একটি টেকসই আঞ্চলিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তী চুক্তিকে একটি স্থায়ী রূপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করেছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ স্থিতিশীল করার আলোচনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছিল।

লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের জেরে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এখন সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এখন সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার সুইজারল্যান্ড পৌঁছবেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সফর একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে টেকসই ও প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত। তবে উইটকফের এ সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল ৪টায় (১৩০০ জিএমটি) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের ওপর হামলা না চালায়, তবে আমাদের পক্ষ থেকেও কোনো যুদ্ধ হবে না। তবে ইসরায়েল তাদের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না বলেও জানান তিনি।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টায় ইসরায়েল অন্তত এক ডজন বিমান হামলা চালালেও বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগে ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে এক অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরলেও কাটেনি আশঙ্কার মেঘ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরলেও কাটেনি আশঙ্কার মেঘ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তেলের দাম কমেছে। এতে বিশ্ব জুড়ে স্বস্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু কখন এই চুক্তি ভেস্তে যায় তা নিয়েই বড় শঙ্কা। চুক্তির স্থায়ীত্বে প্রধান বাধা মনে করা হচ্ছে ইসরাইলকে। কারণ দেশটি চুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেনি, বরং উদ্বেগ দেখা গেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের সবচেয়ে বড় সংগঠনও চুক্তির বিরোধিতা করছে। তবে রিপাবলিকান ইহুদিরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি তোয়াক্কা করেই ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে। এতে ১৮ জন নিহত হয়। এই হামলার জেরে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়ে গেছে। এরপরই তেল আবিবকে কড়া হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন। শেষ পর্যন্ত লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইসরাইল। তবে এই যুদ্ধবিরতিও কতদিন টিকবে তা নিয়ে ভয় আছে। কারণ এর আগে যুদ্ধবিরতি থাকলেও হামলা থামেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ বিশ্ব জুড়ে স্বস্তি

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ তার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা। সেটা তিনি পেরেছেন। আরো তাত্ক্ষণিক একটি ‘সাফল্য’ হলো হরমুজ প্রণালি খোলার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন। কারণ চুক্তির পরপরই তেলের দাম কমে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর মূল্য গতকাল শুক্রবার শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মূলত লেবাননে ইসরাইলি অব্যাহত থাকা এবং সুইজারল্যান্ডে আলোচনা স্থগিত হওয়ায় দাম বাড়ে। চুক্তির পর দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় জনমত জরিপে বারবার উঠে আসে, জ্বালানির উচ্চ দামের কারণে এবং যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আমেরিকান জনগণ ক্রমশ ক্ষুব্ধ হচ্ছিল। অর্থনৈতিক অসন্তোষ ছিল ২০২৪ সালে ভোটারদের ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে ফিরিয়ে আনার প্রধান কারণগুলোর একটি। তবে প্রেসিডেন্টের শুরু করা যুদ্ধ তাদের আর্থিক অবস্থায় প্রভাব ফেলছে—এই ধারণা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠছিল।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও এই অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন সময় তৈরি করে, কারণ তাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি ট্রাম্পকে কিছুটা স্বস্তি দেয় এবং তার মিত্রদের আশা, তিনি নিজেকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন, যিনি দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চলতে থাকা সংঘাত পরিস্থিতি এড়িয়েছেন। তবে চুক্তির সমালোচকরা, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের কিছু অংশসহ ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন যে ট্রাম্প অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল থেকে ইরানের উপকার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে না। এটি ভুয়া সংবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আছে শুধু সাফল্য, তেলের কম দাম এবং বিজয়’। যদিও ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা বলেছেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবে না, তবুও দলটির ভেতরে অস্বস্তি রয়েছে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের শেখায়, যারা আমাদের হত্যা করতে চায়, এমন ধর্মতান্ত্রিক উন্মাদদের বিলিয়ন ডলার দেওয়া ভালো ধারণা নয়। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট খুব খারাপ পরামর্শ পাচ্ছেন।’ রক্ষণশীল বিশ্লেষক টাকার কার্লসন বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ অপমানজনক পরাজয়। এটি একটি পরাজয়’।

ইরানের জন্য এই চুক্তি যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয়। আত্মসমর্পণ না করেও যুদ্ধে টিকে থাকাই শুধু নয়, বরং আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠার দাবি করার একটি সুযোগ এটি। শুরু থেকেই প্রচলিত সামরিক অর্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করা তেহরানের মূল লক্ষ্য ছিল না। বরং লক্ষ্য ছিল সংঘাত থেকে এমন অবস্থায় বেরিয়ে আসা, যাতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র অক্ষত থাকে, নেতৃত্ব কার্যকর থাকে এবং তাদের দরকষাকষির অবস্থান পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে। এই চুক্তি যেটিকে মূলত বলা হচ্ছে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), এটি ইরানকে বলার সুযোগ করে দিয়েছে যে তারা তা অর্জন করেছে। ইরানের সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত তুলনামূলক নীরব। ইরানের নেতৃত্বকে চুক্তিকে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপনের মতো যথেষ্ট উপাদান দিয়েছে এই সমঝোতা; যেমন—সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি, অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা এবং পুনর্গঠন তহবিলের উল্লেখ। আর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্পের জোরাজুরির কারণেই তারা চুক্তিতে রাজি হয়েছেন। কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বিশ্ব নেতারা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিশ্বে শান্তি ফিরবে বলে আশা করেন।

ভয় যে কারণে

ইরানের সঙ্গে চুক্তির পর ইসরাইলে অসন্তোষ বাড়ছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর জরিপে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবেন কি না এমন প্রশ্নে ৭১ শতাংশ ইসরাইলি তার ওপর আস্থা বা বিশ্বাস রাখেন না। বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা ও চুক্তিতে ইসরাইলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না, এই প্রশ্নে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫২ শতাংশ মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আচরণ ইসরাইলের স্বার্থের ক্ষতি করেছে।

ইহুদি গোষ্ঠীগুলোর উদ্বেগের বড় কারণ, এটি ইসরাইলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তারা মনে করছেন, এটি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি পথ করে দিয়েছে। এতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়নি। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস এবং জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকাসহ ইসরাইলপন্থি কট্টরপন্থি থিংক ট্যাংকগুলো ট্রাম্পের চুক্তির সমালোচনা করেছে।

ইসরাইলি নেতারা চুক্তির বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে তীব্র বিরোধিতা করেছেন। কারণ, চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এআইপিএসি দীর্ঘ বিবৃতিতে বলেছে, এই সমঝোতা স্মারকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। বিবৃতিতে কংগ্রেসকে একটি চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তির আগে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিশ্বাস করার আহ্বান জানিয়েছে রিপাবলিকান জিউইশ কোয়ালিশন (আরজেসি)। এর মাধ্যমে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমঝোতা স্মারককে সমর্থনকারী সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইহুদি সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন স্টিভ উইটকফ ও আব্বাস আরাগচি

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন স্টিভ উইটকফ ও আব্বাস আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। একটি টেকসই আঞ্চলিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তী চুক্তিকে একটি স্থায়ী রূপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করেছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ স্থিতিশীল করার আলোচনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছিল।

লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের জেরে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এখন সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এখন সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার সুইজারল্যান্ড পৌঁছবেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সফর একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে টেকসই ও প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত। তবে উইটকফের এ সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল ৪টায় (১৩০০ জিএমটি) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের ওপর হামলা না চালায়, তবে আমাদের পক্ষ থেকেও কোনো যুদ্ধ হবে না। তবে ইসরায়েল তাদের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না বলেও জানান তিনি।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টায় ইসরায়েল অন্তত এক ডজন বিমান হামলা চালালেও বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগে ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে এক অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ

কয়েক ঘণ্টার তীব্র হামলা পাল্টা হামলার পর ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যা আজ শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। একটি সূত্রের দাবি, এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

তবে শুক্রবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (IDF) এর একজন মুখপাত্র যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সেই অবস্থান বহাল থাকবে।

এদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহ যদি আবার ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তাহলে পরিস্থিতি পুনরায় যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননের যে অঞ্চলগুলো বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে সেনারা অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

অবশেষে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা ইরানের; স্বস্তির নিশ্বাস বিশ্বজুড়ে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
অবশেষে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা ইরানের; স্বস্তির নিশ্বাস বিশ্বজুড়ে

বিশ্ব রাজনীতিতে এক নাটকীয় ও ঐতিহাসিক মোড় এনে অবশেষে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানের স্থানীয় সময় সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো হয়েছে।

তেহরানে দায়িত্বরত বিদেশি কূটনীতিবিদদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কথা বলার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এই চাঞ্চল্যকর ও স্বস্তিদায়ক মন্তব্য করেন।

আরাঘচি আরও স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা আগামী শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও উত্তেজনা নিরসনে এই চুক্তিটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাজলো ইরানের জাতীয় সংগীত, উড়লো পতাকা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাজলো ইরানের জাতীয় সংগীত, উড়লো পতাকা

যুদ্ধের আবহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে পারবে কি না, তা নিয়েই ছিল অনেক বড় শঙ্কা। অবশেষে ভিসা দেয়া হলো, তবে বলা হলো ম্যাচ শেষ করে দিনে দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে ইরানকে। এমন পরিস্থিতিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাজলো ইরানের জাতীয় সংগীত।

যদিও এটাই নিয়ম। ম্যাচ শুরুর আগে প্রতিযোগী দুই দলের জাতীয় সংগীত তবুও তো বাজলো ইরানের জাতীয় সঙ্গীত, উড়লো ইরানের জাতীয় পতাকা। তেতো হলেও কুইনাইন হজম করার মত- আমেরিকানরা চোখের সামনে দেখলো ইরানের পতাকা উড়ছে পতপত করে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুনতে হলো যুদ্ধের চরম প্রতিপক্ষ ইরানের জাতীয় সংগীত।

এমন সময় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটি শুরু হয়, যার কয়েক ঘন্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই ঘোষণা শুনেই মাঠে নামে ইরানের ফুটবলাররা। দুর্দান্ত খেললেও ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নিউজিল্যান্ড তাদের রুখে দিয়েছে ২-২ গোলে।

যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরি সম্পর্কের প্রভাব পড়েছে ইরান ফুটবলেও। খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও সাপোর্ট স্টাফদের একটা অংশ যুক্তরাষ্ট্রে অনুপস্থিত ছিলেন ভিসা না পেয়ে। টিকিট প্রাপ্তি নিয়েও জটিলতায় পড়েন ইরানের সমর্থকরা। বলা চলে অস্বস্তি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে পৌঁছে গত রোববার।

প্রচন্ড অস্বস্তি নিয়ে মাঠে নেমেও ম্যাচ জিতে দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টায় থাকলেও ইরান শেষ পর্যন্ত পারেনি। এর মধ্যে যোগ হয় স্থানীয় সমর্থক দ্বারা ইরান ও তাদের জাতীয় সংগীতকে কটাক্ষ বা বিদ্রুপ করার ঘটনা। ‎স্টেডিয়ামের ভেতরে কিছু দর্শক ইরানের জাতীয় সংগীত চলার সময় সেটিকে হুটিং করে অপমান করেন।

‎খেলার আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লেখা প্ল্যাকার্ড ও পতাকা প্রদর্শন করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, এই ম্যাচে অংশ নেওয়া মানে তেহরান সরকারকে সমর্থন করা বোঝায়। তাই তারা ম্যাচে উপস্থিত হতে চাননি এবং সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

আগামী ২২ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ইরান। সেই ম্যাচটিও হবে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে।