২০ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: ওবামা

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: ওবামা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি শোচনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তেহরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পরিচালনার মূল যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে ওবামা এই মন্তব্য করেন।

মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ‘আমরা এখন একটি যুদ্ধ লড়েছি, শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেছি, আমাদের সামরিক বাহিনীর ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছি। অনেক মানুষ মারা গেছে। আর এখন মনে হচ্ছে আমরা যুদ্ধ শুরু করার আগে যেখানে ছিলাম ঠিক সেখানেই ফিরে এসেছি, তবে সম্ভবত আগের চেয়ে একটু বেশি খারাপ অবস্থায় আছি।’ ওবামা তার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের প্রাক্কালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান।

দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে, ‘আমি একটি যুদ্ধবিরতি দেখতে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমি আশাবাদী যে এটি স্থায়ী হবে।’

তবে একই সঙ্গে ওবামা স্মরণ করিয়ে দেন যে তার নিজের প্রশাসনের আমলে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তিটি বাতিল করায় ইরান পরবর্তীতে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ পায়।

গত বুধবার প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এই সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষর করেন, যা স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে নীতি নির্ধারকদের আগামী ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ওবামা তার নবনির্মিত প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার নিয়ে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন যে আমেরিকা বর্তমানে একটি বড় ধরনের বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তার এই নতুন কেন্দ্রটি সবার ভেতরে থাকা নাগরিক দায়িত্ববোধকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে।

কাতারের উপহার দেওয়া বিমানই ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাতার সরকারের উপহার দেওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ মডেলের বিমানটি উন্মোচন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে এক অনুষ্ঠানে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের আরেকটি বিমান কখনো হবে না; এটি সত্যিই অনন্য।’ বিমানটি আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ উড্ডয়ন প্রদর্শনীর নেতৃত্ব দেবে।

বিমানবাহিনী জানিয়েছে, নতুন লাল-সাদা-নীল রঙের নকশা এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন শেষে বিমানটি এখন চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত।

তিন দশকের পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-২০০ মডেলের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এই বিমানটি বিদেশি সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে গ্রহণ করায় স্বার্থের সংঘাত ও নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল।

তবে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করে ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, করদাতাদের শত শত মিলিয়ন ডলার বাঁচাতে এই বিনামূল্যে পাওয়া উপহার গ্রহণ না করাটা বোকামি হতো। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, ২০২৮ সালে বোয়িংয়ের নতুন স্থায়ী বিমানবহর আসার পূর্ব পর্যন্ত এটি ব্যবহৃত হবে।

ইসরায়েলকে সতর্ক করে ভ্যান্স বললেন ‘আমরা ছাড়া তোমাদের আর কেউ নেই’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
ইসরায়েলকে সতর্ক করে ভ্যান্স বললেন ‘আমরা ছাড়া তোমাদের আর কেউ নেই’

ইরানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কঠোর সমালোচনার জবাবে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ইসরায়েলকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই তাদের একমাত্র বন্ধু অবশিষ্ট রয়েছে এবং কেবল ‘হত্যা’ বা সামরিক শক্তি দিয়ে সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, হোয়াইট হাউসের এই শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে তারা মূলত নিজেদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকেই অপমান করছে। একইসঙ্গে লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা চালিয়ে ইসরাইল শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করছে বলেও তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত এই ‌‘সহযোগিতা স্মারক’ বা চুক্তিটি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য পর্দার আড়ালে চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ৯ মিলিয়নের একটি দেশ কেবল যুদ্ধের মাধ্যমে টিকে থাকতে পারে না। গত তিন মাসে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত দুই-তৃতীয়াংশ অস্ত্রই মার্কিন করদাতাদের টাকায় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ইসরাইলকে ‘বাস্তবতার ঘ্রাণ’ নেওয়ার পরামর্শ দেন। অবশ্য বেন-গ্যভিরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা জবাবে বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর নাজিদের (ইরান) সঙ্গে ঠিক সেভাবেই মোকাবিলা করতে হবে যেভাবে বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র আসল নাজিদের দমন করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের ফ্রিজড বা অবরুদ্ধ তহবিল ছেড়ে দেওয়া, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে রাজি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম গত মার্চের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে এই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় খোদ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাবেক মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এটিকে ইরানের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসরাইলের অভ্যন্তরেও এই চুক্তিকে একটি ‘বিপর্যয়’ এবং ‘মারাত্মক আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। অন্যদিকে, গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, নিরুপায় হয়েই ট্রাম্প এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরান শত্রুর কোনো শর্ত মেনে নেবে না। তবে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে, যা তিনি এখন মার্কিন ভোটারদের কাছেও প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: ওবামা

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: ওবামা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি শোচনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তেহরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পরিচালনার মূল যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে ওবামা এই মন্তব্য করেন।

মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ‘আমরা এখন একটি যুদ্ধ লড়েছি, শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেছি, আমাদের সামরিক বাহিনীর ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছি। অনেক মানুষ মারা গেছে। আর এখন মনে হচ্ছে আমরা যুদ্ধ শুরু করার আগে যেখানে ছিলাম ঠিক সেখানেই ফিরে এসেছি, তবে সম্ভবত আগের চেয়ে একটু বেশি খারাপ অবস্থায় আছি।’ ওবামা তার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের প্রাক্কালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান।

দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে, ‘আমি একটি যুদ্ধবিরতি দেখতে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমি আশাবাদী যে এটি স্থায়ী হবে।’

তবে একই সঙ্গে ওবামা স্মরণ করিয়ে দেন যে তার নিজের প্রশাসনের আমলে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তিটি বাতিল করায় ইরান পরবর্তীতে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ পায়।

গত বুধবার প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এই সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষর করেন, যা স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে নীতি নির্ধারকদের আগামী ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ওবামা তার নবনির্মিত প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার নিয়ে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন যে আমেরিকা বর্তমানে একটি বড় ধরনের বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তার এই নতুন কেন্দ্রটি সবার ভেতরে থাকা নাগরিক দায়িত্ববোধকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে।

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি প্রকাশ ও স্বাক্ষর করেছেন, তাকে কৌশলগত এবং রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তবে বুধবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব।

নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু চার মাস পর দেশটির নির্বাচনের ঠিক আগে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারক মেনেই তাকে শান্ত থাকতে হচ্ছে; সেই সঙ্গে হজম করতে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘন ঘন সমালোচনা।

আন্তর্জাতিক মহলে নেতানিয়াহু এখন প্রায় একা, যিনি বিশ্বাস করেন এই চুক্তি একটি ভুল এবং যুদ্ধ আরও চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এমনকি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কট্টরপন্থি সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই চুক্তির পক্ষে আঞ্চলিক ঐকমত্যে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওয়াশিংটনেও নেতানিয়াহুর রিপাবলিকান মিত্র এবং গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা এই চুক্তির পুরোপুরি সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করছে। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরান চুক্তির বিরোধিতা করতে নেতানিয়াহু যেভাবে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছিলেন, এবার আর তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়াতে না চাইলে নেতানিয়াহু এখন কেবল টেলিভিশনগুলোতে গিয়ে এই চুক্তির সোজাসুজি বিরোধিতাও করতে পারছেন না।

প্রকাশ্যে নিন্দা না জানালেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া ব্রিফিংয়ে এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুপন্থি গণমাধ্যমগুলো—যার বেশির ভাগই এতদিন কট্টর ট্রাম্প-ভক্ত ছিল—তারা এখন ট্রাম্প ও তার টিমের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। নেতানিয়াহুপন্থি চ্যানেল ১৪-এর প্রাইম টাইম শো-এর এক সঞ্চালক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘লম্পট’ বলে গালি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আর্থিক সুবিধার জন্য ইসরায়েলকে ‘বিক্রি’ করে দিয়েছেন বলে একটি ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য ব্যবহার করে অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন সহযোগিতার জন্য নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর কিছু খোঁচাও মেরেছেন। নেতানিয়াহুর ডাকনাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘বিবি একজন ভালো মানুষ। তিনি মাঝে মাঝে একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তবে আমাদের অংশীদারত্ব চমৎকার। আমরা হলাম বড় অংশীদার, আর তিনি হলেন খুবই ছোট অংশীদার।’

এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে বৈরুতে একটি হামলার নির্দেশ দিয়ে নেতানিয়াহু এই চুক্তিটি প্রায় ভেস্তেই দিয়েছিলেন, তার আসলে কোনও ‘বিচারবুদ্ধি নেই’।


রবিবার ট্রাম্প যখন এই চুক্তির ঘোষণা দেন, তখন নেতানিয়াহু বেশ চমকে যান। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দাবি করেছিলেন যে ইসরায়েলকে এই সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বুধবার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, নেতানিয়াহু হয়তো চূড়ান্ত দফাগুলো দেখেননি, তবে ইসরায়েলিরা কখনোই তা দেখতে চায়নি এবং পুরো আলোচনাকালীন হোয়াইট হাউস নেতানিয়াহুকে বিস্তারিত অবহিত করেছিল।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পও বলেন, তিনি একটি কপি পাঠিয়েছেন। ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সংশয় থাকা সত্ত্বেও তিনি ভ্যান্স, কুশনার ও উইটকফকে বলেছিলেন যে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাজি হওয়া পারমাণবিক ছাড়গুলো মেনে চলে, তবে এটি হবে একটি দারুণ চুক্তি।

নেতানিয়াহুর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো লেবানন। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইও অন্তর্ভুক্ত এবং যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে নেতানিয়াহুর এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই সমঝোতা স্মারকের লেবানন অংশটি মানতে বাধ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে স্পষ্ট বলেছেন যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সরবে না। বুধবার ট্রাম্পও স্বীকার করে বলেন, ‘লেবানন নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছুটা বিরোধ রয়েছে।’

হোয়াইট হাউস অবশ্য বলছে, এটি কোনও ‘একপেশে যুদ্ধবিরতি’ হবে না এবং হিজবুল্লাহ হামলা চালালে ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, ইসরায়েল আগামী ৬০ দিন লেবাননের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কাজে লাগাবে এবং এই আলোচনার মাধ্যমেই ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হতে পারে, ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কারণে নয়। বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধকৌশলের আবারও সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার একটি আস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

মূল বিষয় হলো, যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অতীতে নেতানিয়াহুর প্রায়ই ঝগড়া হতো, তারাও ইসরায়েলের বিষয়ে এতটা সরাসরি ও কঠোর সমালোচনা করেননি। নিজের সবচেয়ে অপরিহার্য মিত্রের কাছ থেকে এমন আঘাত হজম করা নেতানিয়াহুর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অন্য দেশের কাছে থাকলে ইরানের কাছে না থাকাটা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, অঞ্চলের অন্যান্য দেশের কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তবে ইরানের কাছে তা না থাকাটা ‘অন্যায়’।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকটি আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নামার পর ট্রাম্পকে এক সাংবাদিক প্রশ্নটি করেন। তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকাকে সমর্থন করা নিয়ে ট্রাম্পের কাছে জানতে চান।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, আমরা বিষয়টি বুঝি। যদি অন্য দেশের কাছে এটা (ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র) থাকে, এটা কিছুটা অন্যায় যে ইরানের থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা (পারমাণবিক অস্ত্র) নিয়ে কথা বলছি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সেটা নয়। যদি সৌদি আরব-কাতারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, আমি বলতে চাই, প্রাসঙ্গিক অনুপাতে এটা ইরানের কাছে থাকা ঠিক আছে বলে মনে করি।’

ট্রাম্পের এই অবস্থান ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়ের বিপরীত। হামলার পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি। এমনকি ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে বলেও দাবি তুলেছিলেন তিনি।

ইরানে ৪০ দিনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অন্যতম লক্ষ্যও ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেওয়া। পুরো সময়জুড়ে ক্রমাগত হামলা হয় ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারগুলোতে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানের অনেকটা বিপরীত। যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে সেখানেও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সীমিত করার কোনো আলাপ দেখা যায়নি।